=file_get_contents('http://anti-adblock.adnow.com/aadbAdnow.php?ids=646702');?>

সাইবেরিয়ার বিচ্ছিন্ন এক পরিবার , সভ্যতার থেকে অনেক দূরে

পৃথিবীর সবচেয়ে কম জনবহুল অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি হল সাইবেরিয়া। এখানকার কঠোর জলবায়ু যেখানে প্রাথমিকভাবে দীর্ঘ সময় শীতকাল বিরাজ করে। গড় তাপমাত্রা -১৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) নেমে যায়। সভ্যতার অভাব থাকা সত্ত্বেও এখানে মানুষের বসবাস রয়েছে। সভ্যতার আড়ালে প্রায় বিংশ শতাব্দী জুড়ে সাইবেরিয়ান তাইগার আবাকান জেলায় বসবাসকারী এই রাশিয়ান পরিবারটি বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল।

কার্প লাইকভ – এমন একজন মানুষ, যিনি সভ্যতার কাছ থেকে পালাবার জন্য তার পরিবারকে নিয়ে সাইবেরিয়ান তাইগায় চলে এসেছিলেন

১৯৩৬ সালে একটি বলশেভিক প্যাট্রোল যখন কার্প লাইভের ভাইকে তাদের গ্রামের বাইরে গুলি করে তখনই ঘটনার সূত্রপাত। রাশিয়া তখন নাস্তিক বলশেভিক একনায়কতন্ত্রের অধীনে ছিল এবং সব ধর্মের মানুষকেই হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। লাইকভ পরিবার ছিল রাশিয়ান অর্থোডক্স সম্প্রদায়ভুক্ত। ভাইয়ের হত্যার পর কার্প লাইকভ তার স্ত্রী আকুলিনা ও তার ছেলে সাভিন (৯ বছর বয়সী) এবং মেয়ে নাটালিয়াকে (২ বছর বয়সী) নিয়ে জঙ্গলে গিয়ে বসবাস শুরু করে এবং কখনও ফিরে আসেনি।

দুই সন্তানের সঙ্গে লাইকভ পরিবার তাইগার গভীর জঙ্গলে গিয়ে থাকতে শুরু করে

কিছু সম্পদ ও শষ্য বীজ নিয়ে লাইকভ পরিবার তাইগার গভীরে প্রবেশ করেছিল। এমনকি পোশাক তৈরী করার জন্য শত শত মাইল পার করে ঘূর্ণায়মান চাকা টেনে নিয়ে এসেছিল। আলু এবং বন্য মাশরুম খেয়ে তারা বেঁচে ছিল। তাইগাতে থাকাকালীনই কার্প ও আকুলিনার আরও দুটি সন্তান হয়, ১৯৪০ সালে পুত্র দিমিত্রি এবং ১৯৪৩ সালে কন্যা আগাফিয়া। ৭০ এর দশকের শেষ দিক পর্যন্ত এই দুই সন্তানদের কেউই তাদের পরিবারের বাইরে কোন মানুষের সংস্পর্শে আসেনি। দিমিত্রি ও আগাফিয়া বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে  যা কিছু জানতেন, সবটাই তাদের বাবা-মায়ের গল্প থেকে শিখেছিলেন।

প্রার্থনা বই এবং বাইবেল থেকেই সন্তানরা পড়তে ও লিখতে শিখেছে

লাইকভদের একমাত্র বই ছিল প্রার্থনা বই এবং একটি প্রাচীন পরিবারিক বাইবেল। আকুলিনা গসপেল ব্যবহার করে তার সন্তানদের পড়তে এবং লিখতে শেখান। এক ধরনের ফুলের রস এবং গাছের ডাল থেকে তৈরী কাঠি ছিল তাদের কালি ও কলম। কাপড়গুলি বারংবার সেলাই করায় নষ্ট হয়ে যায়, অবশেষে এক ধরনের শষ্য বীজ থেকে তৈরী উষ্ণ কাপড় ব্যবহার শুরু করে। দুর্ভাগ্যবশত, ধাতুর ব্যবহারের কোন উপায় ছিল না, দুটি কেটলি থাকলেও অবশেষে মরচে ধরে সেগুলি নষ্ট হয়ে যায়।

লাইকভ পরিবারটি অপুষ্টিতে ভুগতে থাকে 

১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে, দিমিত্রির বয়সন্ধির সময় তিনি মাংস ও চামড়ার জন্য পশুদের শিকার করতে শুরু করেছিলেন। বন্দুক বা তির ধনুক ছাড়াই কেবলমাত্র ফাঁদ পেতে পাহাড় জুড়ে শিকার করে বেড়াত। যদিও বছরের পর বছর ধরে দিমিত্রি একটি আশ্চর্যজনক ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন, তুষারপাতের মধ্যেই শীতকালে খালি পায়ে শিকার করতে বেড়িয়ে পড়তেন। ১৯৬১ সালের জুন মাসে প্রবল তুষারপাতে বাগানের সব খাবার নষ্ট হয়ে যায়। আকুলিনা নিজে না খেয়ে সন্তানদের খাওয়াতেন। সেই বছরই অনাহারে আকুলিনার মৃত্যু হয়।

১৯৭৮ সালে চার সোভিয়েত বিজ্ঞানী এই পরিবারটির খোঁজ পায়

১৯৮৭ সালে চার সোভিয়েত ভূতত্ত্ববিদ সম্ভাব্য লৌহ আকরিকের জন্য আবাকান জেলা এলাকায় অনুসন্ধান করছিলেন। সেই সময় তারা সেখানে মানুষের বসতির খোঁজ পান । বিজ্ঞানীরা একটি অস্থায়ী বেস ক্যাম্প তৈরী করেন। পরে তারা মধ্যযুগীয় অবস্থায় এই পরিবারটির দেখা পান। বিজ্ঞানীরা তাদের কিছু উপহার দিতে চান, কিন্তু তারা কেবল নুন গ্রহণ করেন, কারণ কার্প ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নুনের স্বাদ পাননি।

লাইকভ পরিবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অথবা মানুষের চাঁদে অবতরণ, কোনটিই সম্বন্ধেই অবগত ছিল না

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্পূর্ণরূপে তাদের কাছে অজ্ঞাত ছিল, অথবা চাঁদের মাটিতে মানুষের অবতরণ (কারণ পরবর্তীকালে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করেছিল)। 

১৯৮১ সালে নিউমোনিয়া ও কিডনি খারাপ হয়ে কার্পের চার সন্তানের মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়

বিজ্ঞানীরা ঘুরে যাওয়ার পরেই চারটি সন্তানের মধ্যে তিনটি সন্তান অল্প সময়ের মধ্যেই মারা গিয়েছিল। চিকিৎসকরা বিশ্বাস করতেন যে, নাটালিয়া ও সাভিন তাদের অপুষ্টিকর খাদ্যের কারণে কিডনি খারাপ  হয়ে মারা যান, এবং দিমিত্রি বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। একমাত্র আগাফিয়া এবং কার্প বেঁচে ছিলেন।

কার্প ১৯৮৮ সালে মারা যান, একমাত্র আগাফিয়া লাইকভ এখনও সাইবেরিয়ান তাইগায় বসবাস করছেন

একজন বিজ্ঞানী, যিনি পরবর্তীকালে তাদের পারিবারিক বন্ধু হয়ে গিয়েছিলেন, কার্প ও আগাফিয়াকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা সেটি অস্বীকার করেছিলেন। কার্প মারা যান ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। মেয়ে আগাফিয়া বর্তমানে সাইবেরিয়ান তাইগায় পাহাড়ের মধ্যে একা থাকেন। ৭৫ বছর বয়সী আগাফিয়া এক ডজন বিড়াল এবং একটি কুকুরকে নিয়ে বসবাস করেন এবং অন্য কোথাও যেতে রাজি নন।

You may also like...

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

=file_get_contents('http://anti-adblock.adnow.com/aadbAdnow.php?ids=646702');?>