পাশে বসে থাকা ভদ্রলোকটিকে আচমকা একটা ধাক্কা দিয়ে ঋষভ বলে উঠলো, ” গায়ের ওপর উঠে আসছেন কেন? সরে বসুন, বাড়িতে কি বাবা- ছেলে নেই?”

ভদ্রলোক উচ্চস্বরে "উচ্ছন্নে গেল...উচ্ছন্নে গেল..." বলে নিজের মনে কী সব বিড়বিড় করতে করতে জানালার দিকে তাকিয়ে বসে রইলেন।

Advertisements

“আমারই চোখের সামনে থাকবি সবসময়। না চাইলেও কিছুই করার নেই তোর। আমিই তোর সখা, আমিই তোর বন্ধু, আমিই তোর শ্রীকৃষ্ণ।”

অচেনা বন্ধু রাত সাড়ে এগারোটা। বন্দীপুরের প্লাটফর্মটা প্রায় পুরোটাই ফাঁকা। এত রাত হয় না আমার। আর হলেও সঙ্গে গাড়ি থাকে সেদিন। আর আজ শীতের এই রাতেই গাড়িটা সঙ্গে নেই! প্লার্টফর্মে যে কয়েকটা মানুষ, সবাই ছন্নছাড়া হয়েই এখানে সেখানে বসে। সবাইকে বেশ নিশ্চিতই দেখাচ্ছে। আমি ছাড়া আর কারোর চিন্তার কোন কারনই নেই মনে হয়। সবাই সারা... Continue Reading →

শর্তবিহীন ভালোবাসা, কাবুলিওয়ালার মিনি, আমার ছোট্ট সাচি…

ব্যক্তিগত গদ্য "শর্তবিহীন ভালোবাসা"- কি সুন্দর মন কেমন করা একটা শব্দবন্ধ। বাংলা এবং ইংরেজি দুটো ভাষাতেই শুনতে বড় ভালো লাগে। সারা জীবন যেন শুধু এরই অপেক্ষা...এরই খোঁজ। যদি কোনোদিন কোথাও সত্যিই খুঁজে পেতাম শর্তবিহীন ভালোবাসা...আনকন্ডিশনাল লাভ...যেখানে নেই কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসেব। কৈশোরকাল থেকেই ঘুমঘোরে স্বপ্ন আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে...দিয়েছে অনেক প্রশ্নের উত্তর,ফিরিয়ে দিয়েছে হারিয়ে যাওয়া কবিতার... Continue Reading →

রুমনার চোখ দিয়ে নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়লো ক’ফোঁটা চোখের জল- বাস্তবটা যে এমনই …সত্যিই কেউ নেই পাশে …কেউ থাকে না…

একান্ত ব্যক্তিগত (নিজের কথা থাক নিজেরই কাছে ...মনের কথা মনেই ) "ও বৌদি, রাগ কোরো না গো...কালও কিন্তু ভোর ভোর উঠে দরজা খুলে দিতে হবে। ঠিক পাঁচটার সময় এসে তোমার বাসন মেজে, ঘর ঝাড়পোঁছ করে দিয়ে যাবো" - মেঝেতে বসে আটা মাখতে মাখতে জানালো চামেলী...সঙ্গে সঙ্গে রুমনার ভুরু কুঁচকে গেলো। একরাশ বিরক্তির সাথে ও বললো-... Continue Reading →

সেগুন কাঠের ডাইনিংটেবিলটা একই জায়গায় একইভাবে আছে…

অনুগল্প  ডাইনিং টেবিল  সিক্স সিটার ডাইনিংটেবিল...সেগুন কাঠের। টেবিলটা যখন কেনা হয়েছিল, ছেলে মেয়ে দুজনেই তখন স্কুলের গণ্ডি পেরোয়নি। চারজনের সংসারে ফোর-সিটার কিনলেও চলতো। অনিমেষবাবু তবুও ওইটুকু বিলাসিতাকে তখন প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। মাইনে পত্তর যদিও সেই আমলে বিরাট কিছু ছিল না...তবুও বড়সড় ডাইনিংটেবিলটা অনিমেষবাবুর মধ্যবিত্ত জীবনে মনের মধ্যে বেশ একটা রাজকীয় ভাব আনতো। দক্ষিণের বারান্দার দিকের চেয়ারটা... Continue Reading →

রিকির মাঝে মাঝে মনে হয় “মা যেন অনেক দূরের মানুষ হয়ে যাচ্ছে”…ওরও সঙ্গী দরকার…আনন্দ দরকার…

শৈশব কৈশোর কেন আজ এতো হতাশাগ্রস্ত ? চারিদিকে কেন আজ এতো আত্মহননের খবর ? ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে ...কোথায় ভুল করছি আমরা ? বড়রা ? শুধুমাত্র লেখিকা হওয়ার বাসনায় আমি কলম ধরিনি । একটা সময় থেকে খুব তীব্র তাগিদ অনুভব করেছিলাম -মানুষকে বুঝতে হবে ,পাশে দাঁড়াতে হবে,হাত ধরতে হবে আর  কিছু না পারি সচেতনতা জাগানোর... Continue Reading →

সে চোখের করুন আর্জি আমি ফেরাই কি করে? মাথার পাশে যখন বসলাম তখনও একদৃষ্টে উনি আমার দিকে তাকিয়ে…

আত্মজা অফিস বেরনোর সময়টা প্রতিদিনই দেরী হয়ে যায়। প্রায় দৌড়ে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়। আর ঠিক সেই সময়টাতেই নতুন এক বিপত্তি জুটেছে। আমাদের নতুন ভাড়াটিয়া। এক বয়স্ক ভদ্রলোক আর ভদ্রমহিলা। কাকিমা রোজ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। আমি বেরোতে গেলেই ধরবেন। একথা সেকথায় আমার আরো দেরি করিয়ে দেন। একে বয়স্ক তারপর আবার নতুন এসেছেন। কিছু বলাও... Continue Reading →

ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে কেন যেন আজ ওর বাড়ির একেবারে পেছনের ঘরটায় যেতে ইচ্ছে করলো …

আগামীকাল....হয়তো বা .... স্যাটেলাইটের মেজাজটা আজ ভালো নেই । ওহ্ নো , ও স্যাড ফীল করছে না ....ওইসব ফীলিংস্ এখন আর নেই। হি ইজ আ লিটল ডিপ্রেসড অ্যান্ড হাইলি ইরিটেটেড । সামার ক্যাম্প এর জন্য ওর ক্লাসমেটরা একটা মুনট্রিপে যাচ্ছে , ওখানে একটা ইন্টার প্ল্যানেট কম্পিটিশন আছে । স্যাটেলাইটেরই শুধু যাওয়া হবে না। ওর বায়োলজিকাল... Continue Reading →

কবিতার প্রথম লাইনে মনির চোখ আটকে গেলো – “ভালোবাসার পাশেই একটা অসুখ শুয়ে আছে”

ভালোবাসার পাশেই "ওহ্...মম্ ,টুডে দ্য ফিশকারি ইস জাস্ট অসম"...টিংকার কথা শেষ হতে না হতেই আঙ্গুল চাটতে চাটতে রণিত বলে উঠলো-"রিয়েলি অল দ্য আইটেমস্ আর সুপার্ব টুডে".... সত্যিই আজ রণিত মনিদীপা আর ওদের একমাত্র ছেলে টিংকার ফ্যামিলি টাইমটা একেবারে সুপার হিট হয়ে গেলো। সপ্তাহের এই একটা দিন অর্থাৎ শনিবারের ডিনারটা ওরা তিনজনে একসাথে হৈচৈ করে এনজয়... Continue Reading →

Powered by WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: