গন্তব্য চোদ্দ নম্বর – দালিয়া

তারাতলা থেকে দুই বন্ধু ঋষভ আর দেবেশ বাসে উঠল। গন্তব্য চোদ্দ নম্বর । মোটামুটি ফাঁকা বাস, ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু যাত্রী বসে আছেন।

বাস ছাড়তে বেশ খানিকটা দেরি আছে। স্বল্পভাষী দেবেশের দুই চোখ আপন খেয়ালেই এদিক ওদিক ঘুরে চলেছে। হকারের হাতে ঝুলতে থাকা বাদাম-ঝুড়িভাজা-ডালমুগের প্যাকেটগুলো মুখের সামনে দিয়ে পাক খেয়ে গেল। দেবেশ একটা বাদামের প্যাকেট কিনে কয়েকটা মুখের ভেতর ঢেলে দিল।

ঋষভের মনে তখন অন্য কিছু চলছিল। ধূত…শুধু শুধু বসে থাকতে ভালো লাগে? পাশে বসে থাকা ভদ্রলোকটিকে আচমকা একটা ধাক্কা দিয়ে ঋষভ বলে উঠলো, ” গায়ের ওপর উঠে আসছেন কেন? সরে বসুন, বাড়িতে কি বাবা- ছেলে নেই?”

ভদ্রলোকটি হতভম্ব হয়ে গেলেন। দেবেশেরও সম্বিত ফিরল। হালকা করে ঋষভের গায়ে ধাক্কা দিয়ে ইশারায় চুপ করে যেতে বলল। কিন্তু টাইম পাসের এমন সুযোগ কি আর সে হাত ছাড়া করে? অবশেষে বাসের অন্য প্যাসেঞ্জারদের মতনই মজা দেখতে লাগলো।

ঋষভের দিকে কটমট করে তাকিয়ে রয়েছেন ভদ্রলোকটি, দেখেই বোঝা যাচ্ছে হেব্বি রেগে গেছেন। মৌনতা ভেঙে বলে উঠলেন, ” কাজ নেই? পায়ে পা বাড়িয়ে ঝগড়া করতে এসেছো? তোমার বয়স কত?”

“বয়স নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না, বয়স যথেষ্ট হয়েছে, আর বাসে উঠে আপনার সাথে ঝগড়া করব বলেও বাড়ি থেকে প্ল্যান করে আসিনি। বয়স তো হয়েছে! এবার চেপে বসুন।” ভদ্রলোককে কথাগুলো বলেই দেবেশের দিকে তাকিয়ে চোখ মারল ঋষভ।

ভদ্রলোক আরও উত্তেজিত হয়ে বললেন, “বাড়িতেও কি বাবার সাথে এইভাবেই কথা বলো?”

ওনাকে রাগাবার জন্য ঋষভ জবাব দেয়, ” ধুর মশাই…আপনে বাঁচলে বাপের নাম”। দেবেশ এবার ঋসভকে যেন চেনেই না, এমন ভাবে অন্য দিকে তাকিয়ে বসে রইল, মনে মনে ভাবল “কেস জন্ডিস”।

ভদ্রলোক উচ্চস্বরে “উচ্ছন্নে গেল…উচ্ছন্নে গেল…” বলে নিজের মনে কী সব বিড়বিড় করতে করতে জানালার দিকে তাকিয়ে বসে রইলেন।

কিছুক্ষণ পরে বাস ছাড়ল। চোদ্দ নম্বর স্টপেজ আসার কিছুক্ষণ আগেই দেবেশ উঠে বাসের দরজার কাছে চলে গেল। ঋষভ তখনও বসে। বাস থেকে ঠিক নামার মুহূর্তে ঋষভ সোজা ভদ্রলোকের সামনে গিয়ে বলল, ” কাকু…সময়টা ভালোই কাটল, আপনি কি এই বাসেই যান? তাহলে আবার দেখা হবে। তবে পরের বার টপিকটা কিন্তু আপনিই ভেবে আসবেন…চলি তাহলে।” বাসের মধ্যে তখন অট্টোহাসির আওয়াজ। ভদ্রলোক হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে রইলেন।

দালিয়া

You may also like...

Leave a Reply

%d bloggers like this: