বিশ্বজুড়ে খুঁজে পেতে পারেন আইজাক নিউটন এর অ্যাপল ট্রি-র ক্লোন

পতনশীল একটি আপেল মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ১৬৬৬ খ্রীস্টাব্দে আইজাক নিউটন  ইংল্যান্ডের গ্রান্টহ্যামের কাছে অবস্থিত একটি বৃক্ষের তলায় বসেছিলেন যা মহাকর্ষ তত্ত্বের অনুপ্রেরণাজনিত কেন্দ্রবিন্দু।

Apple Tree All Over the World

নিউটনের এই তত্ত্ব সম্পর্কিত গল্পের সাথে আমরা সবাই অবগত। তিনি যখন তাঁর বাগানে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন একটি আপেল গাছ থেকে নিচের দিকে পড়তে দেখেন। আপেলটি উপর দিকে না উঠে নিচের দিকে নামল কেন? প্রশ্নটা ঘুরপাক খেতে শুরু করে নিউটনের মাথায়। কিন্তু কোন আপেল গাছের তলায় তিনি বসেছিলেন তা কি জানা সম্ভব?

খুব সহজেই এটা জানা যায়, ইংল্যান্ডের উল্‌সথর্প ম্যানর-আইজাক নিউটনের জন্মস্থান, ১৬৬৬ খ্রীস্টাব্দে সেখানে একটিই মাত্র আপেল গাছ ছিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি এটা পর্যবেক্ষণ করেন। ১৮১৬ সালে বিধ্বংসী ঝড়ে  আপেল গাছটি প্রায় নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু নিজে থেকেই আবার পুনরায় শিকড় ছড়িয়ে বেড়ে উঠতে থাকে। সুতরাং সঠিক জলবায়ু পেলে আপনার শহরেও বেড়ে উঠতে পারে “নিউটন ট্রি”।

১৮১৬ সালের বিপর্যয়ের পর, কিছু ভক্ত ঐ গাছের কাঠ বাড়ি তৈরীর কাজে এবং অন্যরা ছাপাখানায় ব্যবহার করে। ১৯৩০ সালে পূর্ব কলিংয়ের একটি গবেষণাগারে ক্লোন তৈরীর জন্য গাছটির অংশ নিয়ে যাওয়া হয়। নিউটনের বৃক্ষের গল্প আসলে এখান থেকেই উঠে আসে। পূর্ব কলিংয়ের গবেষণাগারে তৈরী ক্লোন নিউটন গাছগুলির প্রধান উৎস।

বর্তমানে গাছগুলি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, গবেষণা কেন্দ্রে এবং কোথাও কোথাও গবেষণা কেন্দ্রের নর্দমাতেও পাওয়া যায়। ইংল্যান্ডে ৭টি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ১৩টি এবং কানাডাতে আরো ৩টি গাছ পাবেন। আপনিও কি আপনার কাছাকাছি একটি নিউটন গাছ খুঁজে পেতে চান?

You may also like...

Leave a Reply

%d bloggers like this: