শেষ তিন বছরে টেলিভিশন দর্শকরা কী দেখেছেন ? কোন কোন বিষয় দর্শকদের সব থেকে বেশি প্রভাবিত করেছে ? 

দ্রুতগতির বিশ্ব, নতুন বছরের শুরু, একবার যদি ব্রেক মেরে দাঁড়ানো যায় তবে সকলকেই শেষ বছরের সাফল্য এবং ব্যর্থতার সঙ্গে মুখোমুখি হতেই হবে, মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি এর ব্যতিক্রম নয়।

 

শেষ তিন বছরে দর্শকরা কী দেখেছেন ? কোন কোন বিষয় দর্শকদের সব থেকে বেশি প্রভাবিত করেছে ?  আকর্ষণীয় ব্যাপার হল প্রতি বছরের সাফল্যের গল্প একে অপরের থেকে আলাদা। ২০১৮ তে আঞ্চলিক ভাষার চ্যানেল গুলির ব্যপক উত্থান ঘটেছে, নতুন নতুন খবরের উদ্ভাবন হয়েছে, ক্রিকেট ব্যতীত অন্যান্য খেলাধূলার দিকে দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে।

কর্ণাটকের নির্বাচনের সময় ইংরেজি সংবাদ চ্যানেলগুলি সবচেয়ে বেশি মার্কেট শেয়ার দখল করেছিল, সাম্প্রতিক রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, তেলঙ্গানা ও মিজোরাম নির্বাচনের সময় হিন্দি সংবাদচ্যানেলের বার্ক(BARC) ব্যাপক হারে বেড়েছিল।

আঞ্চলিক ভাষার চ্যানেলগুলির দর্শকসংখ্যা শেষ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শেষ বছরে মারাঠি জিইসি ২৬ শতাংশ, বাংলা ১৩ শতাংশ (সিনেমা-২০ শতাংশ, জিইসি-১২ শতাংশ) অতিরিক্ত বাজার দখল করেছে। আরও আকর্ষণীয় হল, বাংলা এইচডি  চ্যানেলগুলির ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোজপুরি চ্যানেলের ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে। অপরদিকে ওড়িয়া এবং অসমে নিউজ চ্যানেলের দর্শক ১১ শতাংশ বেড়েছে, যা সামগ্রিকভাবে বাজারের ৩০ শতাংশ দখল করেছে।

দক্ষিণের চিত্রটিও ব্যতিক্রম নয়, কর্ণাটকে ২০ শতাংশ, তামিলনাড়ুতে ৩০ শতাংশ, কেরলে ১৮ শতাংশ, অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানাতে ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এইচডি চ্যানেলগুলির দর্শকসংখ্যা বেড়েছে ৪ গুন।ফলস্বরূপ আরও.২৬টি নতুন চ্যানেলের আত্মপ্রকাশ।

স্পোর্টস চ্যানেলগুলির ভিউয়ারশিপ ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে ফিফা বিশ্বকাপের সময় ১১১ মিলিয়ন দর্শক খেলা দেখেছেন, যা রেকর্ড এবং অন্য ফুটবল খেলা দেশগুলির তুলনায় ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

হিন্দি সিনেমার ক্ষেত্রে, ৩০৯৮ টি সিনেমা দেখানো হয় এবং ১৯ মিলিয়ন ইমপ্রেশন সহ টেলিভিশন প্রিমিয়ারের শীর্ষে ছিল ‘ধড়ক’। ওয়ার্ল্ড টেলিভিশন প্রিমিয়ার তালিকায় প্রথম দশে স্থান করে নিয়েছিল ‘ধড়ক’, ‘গোলমাল এগেইন’ এবং ‘টাইগার জিন্দা হায়’ এর মত সিনেমা।

বার্ক-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার পার্থ দাশগুপ্ত একটি মিডিয়া পোর্টালে এই তথ্য দেন। সংবাদ, খেলাধূলা এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ২০১৯ সালে আরও বাড়বে বলেই তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.