অ্যাপার্টমেন্টের দেওয়াল জুড়ে দৈত্যাকৃতি বুককেস

পরিত্যক্ত বহুতল কিংবা পুরনো ট্রেনের ট্র্যাক অথবা চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে থাকা মোটর গাড়ি, স্ট্রিট আর্টিস্টদের হাতের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে বিস্ফোরক ক্যানভাস। ডাচ শিল্পী জন ইস দে ম্যানের জীবন্ত শিল্পকর্মগুলি যেন সেখানকার প্রতিটি মানুষের পরিচয়পত্র বহন করে চলেছে। তার সাম্প্রতিক উপহার, নেদারল্যান্ডের ইউট্রেট-এ একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের তিনতলা জুড়ে একটি ল’অয়েল মুরাল বুকসেস। তাকে সহযোগিতা করেছেন শিল্পী ডেফ ফিড।

ইস দে ম্যান একটি স্মাইলি দিয়ে তার মুরাল শুরু করেন কারণ তিনি মনে করেন একমুখ হাসি দিয়েই মানুষকে সুখী করে দেওয়া যায়। শুরুতে তিনি খুব সাদামাটা মুরাল করতেন। কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে ল’অয়েল মুরার অথবা ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়াল ইলিউশন নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। এই ভাবনা থেকেই দেওয়ালের ওপর তিনি একটা বিভ্রম তৈরী করতে চেয়েছেন, যেখানে মানুষের বিস্ময় এবং আনন্দ একাকার হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের পছন্দের বইগুলি অ্যাপার্টমেন্টের দেওয়ালে স্থান পেয়েছে। মোট ৮টি ভাষা এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনেই ইউট্রেটের এই ত্রিমাত্রিক মুরালের সৃষ্টি। এখানে ভাষা, বয়স এবং সংস্কৃতির কোন বিভাজন নেই। তবে এই মুরালটিতে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোন বইয়ের স্থান নেই।

জন ইস দে ম্যান এবং ডেফ ফিডের এই কাজটি সম্পূর্ণ করতে এক সপ্তাহ সময় লেগেছে। এটি ছিল তাদের কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ। এই মুরালটি এখানকার প্রতিটি মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেছে, চরম বাম থেকে চরম ডান নির্বিশেষে প্রত্যেকের সাথে প্রত্যেককে মিলিয়ে দিয়েছে।

You may also like...

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.