অবশেষে মালতির হৃদয় ধরা পড়ে যায় হলধরের ভালোবাসার বন্ধনে, শুরু হয় হলধরের নতুন উত্তরণের কাহিনী

আমি তোমায় ভালোবাসি , মালতিকে কখোন মুখ ফুটে বলার সাহস পায়নি। শুধু  দুর থেকে সুন্দরী মেয়েটিকে ভালোবেসে গেছে। সারাটাদিন পাশাপাশি কাজ করে , রান্নায় তাকে সাহায্য করে। কিন্তু ভালোবাসার কথা তো আর চাপা থাকে না। হলধরের ভালোবাসা রান্নাঘরের সমস্ত দেওয়াল জুড়ে কবিতার ভাষা হয়ে ফুটে ওঠে। প্রেমিক সত্তার সরণি ধরে উত্তরন ঘটে সৃষ্টি সত্তার ।  প্রেমিক হলধর হয়ে ওঠেন কবি হলধর।

 

৩১মার্চ ১৯৫০, ওড়িশার দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয় হলধর নাগের । দশ বছর বয়সে পিতৃবিযোগের পর মাত্র তিন বছর বয়সেই প্রথাগত শিক্ষার পাঠ থেমে যায়। শুরু হয় জীবনসংগ্রাম। গ্রামের হাইস্কুলের হস্টেলে রাঁধুনীর কাজ শুরু করেন।

হলধরের জীবনের একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। মুখের ভাষায় যে প্রেম ছিল অপ্রকাশিত সেটাই দেওয়াল জুড়ে ফুটে ওঠে কবিতার ভাষায়। অবশেষে মালতির হৃদয় ধরা পড়ে যায় হলধরের ভালোবাসার বন্ধনে। গল্পটা এখানেই শেষ নয়। এরপর শুরু হয় হলধরের নতুন উত্তরণের কাহিনী।

রান্নার কাজে ইতিহাস টেনে বই-খাতার দোকান করে হলধর। রান্নার হাতা-খুন্তি ছেড়ে হাতে ওঠে কাগজ-কলম। সাদা কাগজ ভরে ওঠে ‘কোশলি’ ভাষায় লেখা কবিতায়। ১৯৯০ সালে তার প্রথম কবিতা “ধোদো বড়গাছ” প্রকাশিত হয়। তারপর একে একে শতাধিক কবিতার জন্ম হয় তার কলম থেকে। এছারাও প্রায় ২০ টি মহাকাব্যে রচনা করেন তিনি, যার মধ্যে আচিয়া, বাছার, মহাসতী উর্মিমালা, রুশি কবি গঙ্গাধর সম্বলপুরি-কোশলি সাহিত্যে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। তার লেখা কাব্যগুলির সঙ্কলন “হলধর গ্রন্থাবলী”, “হলধর গ্রন্থাবলী-২” সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তরভূক্ত করা হয়েছে।

২০১৪ সালে ওড়িশা সাহিত্যে “একাডেমি পুরস্কার”, ২০১৬ সালে পান “পদ্মশ্রী” সন্মান । তার লেখনী কৌশল ওড়িশা সাহিত্যে একটা নতুন ঘরানার সূচনা করেছে যা “হলধর ধারা” নামে বহমান।

সাহিত্যিক হলধর নাগের ব্যাপ্তি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। বিবিসি  ইতিমধ্যেই তার জীবন ও কাজ নিয়ে তথ্যচিত্র বানিয়ে ফেলেছে।  তার কিছু নির্বাচিত কবিতা ইংরেজী ভাষাতে “কাব্যঞ্জলী” নামে অনুবাদ করা হয়েছে।

ওড়িশার মানুষের কাছে আজ তিনি “কোশল কুইলি”-“যাদবজ্যোতি”-“কোশলরত্ন” হলধর নাগ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.