শুকনো জলাশয়ে প্রাণসঞ্চার করে চলেছেন ২৬ বছরের যুবক

বর্তমানে জলের সংকট একটা বড় সমস্যা। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা না বাড়লে এই সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মনে করা হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে ২১ টি শহরের জলস্তর আরও নেমে যাবে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হতে পারে যে পরিস্রুত জলের অভাবে ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। নিতি আয়োগের রিপোর্ট অনুসারে, ১৩০ কোটি ভারতীয় জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১৬.৩ কোটি মানুষ পরিস্রুত জল পান না।

২৬ বছর বয়সী রামভির তানওয়ার ভারতে মৃত লেকের পুনরুজ্জীবনের করার চেষ্টা করছেন।

গ্রেটার নয়ডার দাধা গ্রামের বাসিন্দা তানওয়ার পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়র। তিনি লক্ষ্য করেন, তার এলাকায় প্রচুর অব্যহৃত জলাধার রয়েছে। দূষণের কারণে সেইসমস্ত লেকের মধ্যে অনেকগুলি শুকিয়ে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল সরকারি বা ব্যক্তিগত, কোনো তরফেই এর পুনরুদ্ধারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি। একজন ইঞ্জিনিয়র বিভাগের ছাত্র হিসেবে তিনি জলের এই সমস্যাটি উপলব্ধি করেছিলেন।

রামভির জল সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে গ্রামবাসীদের সচেতন করতে শুরু করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে মানুষকে সঠিকভাবে শিক্ষিত করতে পারলেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। সচেতনতার অভাবেই তারা জলের অপচয় করেন। অজ্ঞতাই এর প্রধান কারণ, আইন বা জরিমানা করে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা সম্ভব নয়।

তানওয়ার এই সমস্যার সমাধানে গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি নিজেও সক্রিয় ভূমিকা নেন। কয়েকটি দল তৈরী করে জেলার আশেপাশে মৃতপ্রায় জলাধারগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ শুরু করেন। ২০১৪ সালে এই উদ্যোগটি শুরু করার পর থেকে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ১২টি পুকুর এবং হ্রদের সংস্কার করেন। তানওয়ারের এমন পদক্ষেপ ভারতের পাশাপাশি সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

You may also like...

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.