অবশেষে পানাপুকুরে ফুটন্ত পদ্মের  মতো ভুঁড়িটি দেখে মহাদেব দা’র খোঁজ মেলে, “জয় ভুঁড়ির জয়”…

ভুঁড়ির কদর

 

ভুঁড়ি নিয়ে মহা ফ্যাসাদে মহাদেব দা। হাঁটা চলা করতে গেলেই পেন্ডুলামের মতোই ভুঁড়িটি দুলতে থাকতো । যদিও তিনি মনে করতেন, এতে অন্যের বাপের কি আসে যায় বাপু ?

একদিন মহাদেব দা গাঁয়ের পথ ধরে আপন মনে  হেঁটে চলেছেন। হঠাৎ একদল ছেলে ভুঁড়ির দিকে আঙুল নির্দেশ করে কী সব বলাবলি করছে আর ফিক ফিক করে হাসছে। দেখে তো মহাদেব দা’র পিত্তি জ্বলে গেল।


চোখ বড় বড় করে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বলল, “হারামজাদাগুলো আমার ভুঁড়ি তোদের কি ক্ষতি করেছে রে?”


দলের মোড়ল ছেলেটি বলল, ” আমরা ভুঁড়ি দেখে হাসিনি” ।

মহাদেব দা আরও ক্ষেপে গিয়ে বলল, “তবে তোরা কি দেখে হাসছিলি”?


ছেলেটি বলল, “ঢোল”…

মহাদেব দা- ঢোল আবার কোথায় দেখলি?

কেন? আপনার জামার তলায় লুকোনো আছে। আচ্ছা দাদা, এটা জামার তলায় না রেখে হাতে ঝুলিয়ে নিলেই তো পারেন।

মহাদেব দা – ওরে হারামজাদা ওটা ঢোল নয়।


তবে ওটি কি মহাদেব দাদা?

মহাদেব দা- তোর বাপকে গিয়ে জিজ্ঞেস করগে যা।

অপর ছেলেটি এগিয়ে এসে বলল, “আমরা কালী পুজোর ঢাক খুঁজতে বেড়িয়েছি, তাই বলছিলাম তোমার ঐ জয় ঢাকটা যদি পাওয়া যায়…আজই বায়না করে দিই।

মহাদেবদা তো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। ছেলের দল সুর করে বলতে লাগল

“মহাদেব দা মহাদেব দা,

নাদুস ভুঁড়ি নেড়ে বেশ তো চলো হেলেদুলে,

তবে হঠাৎ কেন আস তেড়ে ফুঁড়ে?

নন্দী ভৃঙ্গী নেইকো তোমার- আমরা আছি,

তাই একটু বসো রসিক দাদা ডুগডুগি বাজাই।”

বাগবিতণ্ডায় না গিয়ে মহাদেব দা বাড়ি ফিরে আসে, কিন্তু যাবে কোথায়? বাড়িতে নিজের বউও তো ভুঁড়ি নিয়ে ঠাট্টা করতে ছাড়ে না, বউয়ের বিদ্রুপ কি আর সহ্য করা যায়? অবশেষে বন্ধু ঘণ্টারাম তলাপাত্রের সঙ্গে সাক্ষাত করে তার পরামর্শ চায়। কিন্তু তলাপাত্র উল্টে মহাদেবের ভুঁড়িতে হাত বুলিয়ে বলে- ভুঁড়ি কমাবে কেন ভায়া বেশ তো গোল গামলার মতো, এভাবেই বরং থাক কাজে লাগবে। আমাদের স্কুলে অর্থের অভাবে গ্লোব কিনতে পারে না, তোমার ওটি মহান কাজে লেগে যাবে। এই কথা শুনে মহাদেব দা সেখান থেকে রাগে গজগজ করতে করতে প্রস্থান করে।


কয়েকদিন পর সে ভোরবেলায় কাছের একটি খেলার মাঠে এক যুবককে ঘন ঘন উঠ বস করতে দেখল। এমন করার কারণটি যুবকটির কাছ থেকে জানল এবং কিছু একটা বুঝল। পরদিন ভোরবলায়, বৌ যাতে দেখতে না পায়,  দু এক পা করে মাঠের দিকে রওনা দিল। মাঝে মাঝে পিছন ফিরে দেখতে লাগল। আকাশ তখনও পরিস্কার হয়নি, আবছা অন্ধকার রয়েছে। সম্মানের ব্যাপার, কেউ যদি পাছে দেখে ফেলে, সেই ভয়ে বারে বারে পিছন ফিরে দেখতে দেখতে অঘটন। হোঁচট খেয়ে যেই না মাটিতে পড়া, তৎক্ষণাৎ ফুটবলের মতো গড়িয়ে পাশের পানা পুকুরে মহাদেব দা। ভারী দেহ নিয়ে তো ডাঙ্গায় ওঠা দায় হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কাউকে নজরেও পড়ে না। অগত্যা পচা জলে উদ্ধারের প্রতীক্ষায় কয়েক ঘণ্টা কেটে যায়। এদিকে মহাদেব দা’র বউ  তাকে কোথাও না দেখতে পেয়ে তো চিন্তায় পড়ে যায়। লোকটা গেল কোথায় । গ্রামের সকলে মিলে তাকে খুঁজতে শুরু করে। অবশেষে পানাপুকুরে ফুটন্ত পদ্মের  মতো ভুঁড়িটি দেখে মহাদেব দা’র খোঁজ মেলে। উদ্ধারের পর সকলে মিলে সমস্বরে চিৎকার করে বলে ওঠে,  “জয় ভুঁড়ির জয়”।

এস কে আনোয়ার

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: