=file_get_contents('http://anti-adblock.adnow.com/aadbAdnow.php?ids=646702');?>

এই অভিনেত্রীকে হাসাতে পারলে ১০০০ ডলার পুরস্কার

১৮৮০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ভাউডভিল ছিল আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদন রূপ। সম্ভবত আধুনিক আমেরিকান পপ সংস্কৃতির পূর্বসুরী। ভাউডভিল সাধারণত ৬ থেকে ১৫ মিনিট দীর্ঘ একটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় সিরিজ। জাদু কৌশল থেকে পশুদের কর্মকাণ্ড এর মধ্যে সামিল ছিল। নিউইয়র্কের হ্যামারস্টাইনের মত প্রতিটি বড় শহরে তাদের নিজস্ব ভাউডভিল থিয়েটার ছিল।

১৯তম শতাব্দীর শেষে অস্কার হ্যামারস্টাইন(প্রথম) নিউইয়র্কে ভিক্টোরিয়া থিয়েটারটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এর ওপরে প্যারাডাইজ রওফ গার্ডেনটি নির্মিত হয়েছিল। এই দুটি স্থান যৌথভাবে হ্যামারস্টাইন নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। ১৯০৪ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত অস্কারের ছেলে উইলি হ্যামারস্টাইন এটি পরিচালনা করেন। তাঁর সময়েই ভাউডভিলের অত্যন্ত জনপ্রিয় কিছু কাজ হয়, যার মধ্যে একটি কুখ্যাত ছিল ” সোবার স্যু আইন” ।

১৯০৭ সাল, সোবার স্যু-এই ডাকনামে একজন অভিনেতা ‘প্যারাডাইজ রওফ গার্ডেনে’ অভিনয় শুরু করেন। শোনা যায় তাঁকে নাকি কেউ কখনো হাসতে দেখেননি। এমনকি তাঁকে হাসাতে পারলে ১০০০ ডলার পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন থিয়েটার প্রযোজকরা। প্রথম দিকে, দর্শকদের মধ্যে অনেকেই মঞ্চে উঠে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গী করে সোবার স্যু-কে হাসানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন, কিন্তু তারা সবাই ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময়ে পেশাদার কমেডিয়ানরা চ্যালেঞ্জ নিতে শুরু করেন এবং তাঁদের সেরাটা উপস্থাপন করেন। কিন্তু সোবার স্যু-র ঠোঁটের কোণে একটুকরো হাসির ঝলকও কখনও দেখা যায় নি। ফলস্বরূপ, তার শো অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সোবার স্যু এর নির্বোধ মুখ সম্পর্কে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রচারিত আছে। কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন তিনি আংশিকভাবে অন্ধ ও বধির ছিলেন। কিন্তু অবশেষে সত্য সামনে আসে, তাঁর পক্ষে হাসা অসম্ভব ছিল কারণ তার মুখের পেশীগুলি ছিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছিল যে এটি ছিল একটি বড় ধরনের স্ক্যাম। প্যারাডাইজ রফ গার্ডেনের পরিচালক উইলি হ্যামারস্টাইন শোয়ের জন্য স্যু-কে সপ্তাহে ২০ ডলার দিতেন, যা সেই সময়ে খারাপ পারিশ্রমিক ছিল না। তাঁকে হাসাবার চ্যালেঞ্জ নিয়ে শীর্ষস্থানীয় কমেডিয়ানরা বিনামূল্যে অভিনয় করতেন। এইভাবে উইলি শোয়ের মালিকদের হাতে প্রচুর মুনাফা তুলে দিয়েছিলেন।

সোবার স্যু সম্পর্কে অনেক তথ্য এখনও অজানা এবং তার কোনও ছবি পাওয়া যায় নি। স্যুয়ের আসল নাম ছিল সুসান কেলি এবং তিনি মবিয়াস সিনড্রোমে ভুগছিলেন। এটি একটি বিরল অবস্থা যার ফলে একাধিক ক্র্যানিয়াল স্নায়ুগুলি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। তা সত্ত্বেও, ‘সোবার স্যুর’ নাম বিভিন্ন শোয়ে দর্শকদের হাসানোর জন্য ব্যবহৃত হতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কমেডি নাটকগুলির কিছু রিভিউতে লেখা থাকত- “এই শো এতটাই মজার যে সোবার স্যু-ও হাসতে বাধ্য।”

You may also like...

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

=file_get_contents('http://anti-adblock.adnow.com/aadbAdnow.php?ids=646702');?>